কুষ্টিয়া প্রতিনিধি | মো. মুনজুরুল ইসলাম
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ২ নং মথুরাপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে তৃণমূলের রাজনীতিতে শুরু হয়েছে নতুন করে হিসাব-নিকাশ।
সম্ভাব্য প্রার্থীদের আনাগোনায় সরগরম হয়ে উঠছে নির্বাচনী মাঠ। দলীয় সমর্থন, সাংগঠনিক শক্তি, ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা এবং সাধারণ মানুষের আস্থা—সবকিছুর সমীকরণ মিলিয়ে চেয়ারম্যান পদে কারা শেষ পর্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকবেন, তা নিয়ে চলছে নানা আলোচনা। এই আলোচনায় ক্রমেই গুরুত্ব পাচ্ছে মোঃ আবু হানিফের নাম।
দলীয় সমর্থন প্রত্যাশার পাশাপাশি তার পারিবারিক ঐতিহ্য, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও সামাজিক সম্পৃক্ততাকে ভিত্তি করে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর চেষ্টা করছেন তিনি। তৃণমূলের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ, স্থানীয় বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে কথা বলা এবং সাধারণ মানুষের পাশে থাকার মানসিকতার কারণে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে তাঁর নাম আলোচনায় এসেছে বলে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে।
তবে মথুরাপুরের নির্বাচনী রাজনীতিতে কেবল দলীয় সমর্থনই যে শেষ কথা নয়, সেটিও স্পষ্ট। কারণ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় পরিচয়ের পাশাপাশি প্রার্থীর ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা, ভোটারদের সঙ্গে সম্পর্ক, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং এলাকার উন্নয়ন ভাবনাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ফলে মোঃ আবু হানিফের সামনে এখন একসঙ্গে দুটি বড় পরীক্ষা—একদিকে দলীয় সিদ্ধান্ত ও সমর্থন আদায়, অন্যদিকে সাধারণ ভোটারের আস্থা অর্জন।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মথুরাপুর ইউনিয়নের ভোটারদের প্রত্যাশার তালিকাও বেশ দীর্ঘ। কৃষি ও কৃষকের উন্নয়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং মাদক ও অপরাধমুক্ত পরিবেশ—এসব বিষয়কে গুরুত্ব দিচ্ছেন তাঁরা। তাঁদের প্রত্যাশা, চেয়ারম্যান পদে যিনিই দায়িত্ব নিন, তাঁকে প্রতিশ্রুতির রাজনীতির বাইরে গিয়ে বাস্তব উন্নয়ন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় সমর্থন প্রার্থীর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হলেও ভোটের মাঠে ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতার বিকল্প নেই। বিশেষ করে ইউনিয়ন পর্যায়ের নির্বাচনে প্রার্থীর সঙ্গে ভোটারদের সরাসরি সম্পর্ক, সামাজিক অবস্থান এবং সংকটের সময়ে মানুষের পাশে থাকার ভূমিকা অনেক সময় নির্বাচনী ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলে। এ কারণে মোঃ আবু হানিফের সম্ভাব্য প্রার্থিতার ক্ষেত্রেও দলীয় সমর্থনের পাশাপাশি জনআস্থাই হয়ে উঠতে পারে মূল নির্ধারক।
মথুরাপুরের রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন তাই প্রশ্ন—দলীয় সমর্থনের সমীকরণে মোঃ আবু হানিফ কতটা এগিয়ে থাকবেন, আর সাধারণ ভোটারের মন জয় করতে পারবেন কতটা? কারণ শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের মাঠে দলীয় পরিচয়ের সঙ্গে ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতার লড়াইটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে মোঃ আবু হানিফের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো মানুষের প্রত্যাশাকে নিজের রাজনৈতিক কর্মপরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত করা এবং জনআস্থাকে কার্যকর নির্বাচনী সমর্থনে রূপ দেওয়া। দলীয় সমর্থন তাঁর পথকে সহজ করতে পারে, কিন্তু ভোটের চূড়ান্ত রায় দেবেন মথুরাপুরের সাধারণ ভোটাররাই।
সব মিলিয়ে মথুরাপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা যত বাড়ছে, ততই জমে উঠছে রাজনৈতিক আলোচনা। সেই আলোচনার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে মোঃ আবু হানিফের নাম। এখন সময়ই বলে দেবে, দলীয় সমর্থন ও জনআস্থার দুই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে তিনি কতটা শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারেন এবং মথুরাপুরের নির্বাচনী রাজনীতিতে তাঁর সম্ভাব্য প্রার্থিতা শেষ পর্যন্ত কোন মাত্রা পায়।
| ফজর | ৫.২১ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৩.৪৭ মিনিট বিকাল |
| মাগরিব | ৫.২৬ মিনিট সন্ধ্যা |
| এশা | ৬.৪৪ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১২.৩০ মিনিট দুপুর |