কুষ্টিয়া প্রতিনিধি | মো. মুনজুরুল ইসলাম
কুষ্টিয়ার উর্বর মাটি ও অনুকূল আবহাওয়া এখন শুধু ধান বা সবজি চাষেই সীমাবদ্ধ নয়; জেলার বিভিন্ন এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে বারোমাসি লেবু চাষে সৃষ্টি হয়েছে নতুন সম্ভাবনার দিগন্ত। বিশেষ করে থাইল্যান্ডের জনপ্রিয় চায়না-৩, উচ্চ ফলনশীল বিনালেবু-১ এবং বীজহীন (সিডলেস) লেবুর চাষ করে স্থানীয় কৃষকেরা যেমন অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হচ্ছেন, তেমনি কৃষিতে যোগ হচ্ছে নতুন উদ্যোক্তারাও।
জেলা কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, কুষ্টিয়ার মাটি ও জলবায়ু লেবু চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। ফলে বছরের প্রায় প্রতিটি মৌসুমেই গাছে ফল ধরে। এই ধারাবাহিক উৎপাদনের কারণে কৃষকেরা এককালীন আয়ের পরিবর্তে সারা বছরই নিয়মিত অর্থ উপার্জনের সুযোগ পাচ্ছেন।
স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রচলিত ফসলের তুলনায় লেবু চাষে উৎপাদন ব্যয় তুলনামূলক কম এবং পরিচর্যার ঝামেলাও সীমিত। উন্নত জাতের লেবু থেকে প্রচলিত জাতের তুলনায় প্রায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ বেশি ফলন পাওয়া যায়। মাত্র কয়েক বিঘা জমিতে পরিকল্পিতভাবে লেবু চাষ করে বছরে কয়েক লাখ টাকা আয় করছেন অনেক কৃষক। এ কারণে ধান ও মৌসুমি সবজির পরিবর্তে অনেকেই এখন লেবু বাগান গড়ে তুলছেন।
কৃষকদের ভাষ্য, লেবু চাষের আরেকটি বড় সুবিধা হলো বাজারজাতকরণে তেমন কোনো জটিলতা নেই। বাগান থেকেই পাইকাররা লেবু কিনে দেশের বিভিন্ন জেলায় নিয়ে যান। ফলে পরিবহন ও সংরক্ষণ ব্যয় কমে যায় এবং কৃষকেরাও ন্যায্যমূল্য পাওয়ার সুযোগ পান।
কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কুষ্টিয়ায় বাণিজ্যিকভাবে লেবু চাষের সম্প্রসারণ শুধু কৃষকের আয়ই বাড়াচ্ছে না, বরং পতিত ও অনাবাদি জমির উৎপাদনশীল ব্যবহার নিশ্চিত করছে। পাশাপাশি সৃষ্টি হচ্ছে নতুন কর্মসংস্থান, গড়ে উঠছে নার্সারি, পরিবহন ও বাজারজাতকরণকেন্দ্রিক ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা।
জেলা কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, আধুনিক প্রযুক্তি, উন্নত জাতের চারা এবং নিয়মিত কৃষি পরামর্শের কারণে জেলার লেবু চাষ দিন দিন সম্প্রসারিত হচ্ছে। সঠিক পরিচর্যা, রোগবালাই দমন এবং মানসম্মত উৎপাদন নিশ্চিত করা গেলে কুষ্টিয়ার লেবু দেশের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি ভবিষ্যতে রপ্তানির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সবুজে ঘেরা লেবুর বাগান আজ কুষ্টিয়ার গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন আশার প্রতীক। কৃষকের পরিশ্রম, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার এবং বাজারের ইতিবাচক চাহিদা—এই তিনের সমন্বয়ে কুষ্টিয়ার লেবু চাষ হয়ে উঠছে লাভজনক কৃষির এক অনুকরণীয় মডেল। সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা ও বাজার ব্যবস্থাপনা আরও জোরদার করা গেলে কুষ্টিয়া শিগগিরই দেশের অন্যতম প্রধান লেবু উৎপাদন অঞ্চলে পরিণত হতে পারে।
| ফজর | ৫.২১ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৩.৪৭ মিনিট বিকাল |
| মাগরিব | ৫.২৬ মিনিট সন্ধ্যা |
| এশা | ৬.৪৪ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১২.৩০ মিনিট দুপুর |