| বঙ্গাব্দ
ad728
ad728

কুষ্টিয়ায় বাকপ্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার, নিরপেক্ষ তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি

রিপোর্টারের নামঃ MD MUNZURUL ISLAM
  • আপডেট টাইম : 16-07-2026 ইং
  • 7220 বার পঠিত
কুষ্টিয়ায় বাকপ্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার, নিরপেক্ষ তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি
ছবির ক্যাপশন: কুষ্টিয়ায় বাকপ্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার, নিরপেক্ষ তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি | মো. মুনজুরুল ইসলাম

কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানাধীন ঝাউদিয়া ইউনিয়নের বৈদ্যনাথপুর গ্রামে এক বাকপ্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। ভুক্তভোগীর পরিবার ও স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দ্রুত বিচার এবং অসহায় পরিবারটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৪ জুলাই মঙ্গলবার দুপুর প্রায় ৩টার দিকে বৈদ্যনাথপুর গ্রামের বাসিন্দা ইছমা খাতুন (৩৫) নিজ বাড়ির বারান্দায় একা বসে কাঁথা সেলাই করছিলেন। এ সময় একই গ্রামের ফারুক আহমেদ (৪০) জোরপূর্বক তাকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ ওঠে।

পরিবারের দাবি, ঘটনার কিছুক্ষণ পর স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি ঘটনাস্থলে এসে আপত্তিকর পরিস্থিতি দেখতে পান। পরে বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা এবং ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগও ওঠে।

ভুক্তভোগী ইছমা খাতুন বাকপ্রতিবন্ধী হওয়ায় নিজের বক্তব্য স্বাভাবিকভাবে প্রকাশ করতে পারেন না। তার স্বামী আবুল হাশেম (৫৫) শারীরিক প্রতিবন্ধী; দীর্ঘদিন ধরে তার বাম হাত অকেজো। চরম আর্থিক সংকটে থাকা এ পরিবারটি অন্যের পরিত্যক্ত একটি বাড়িতে বসবাস করছে। তাদের দুটি কন্যাসন্তান রয়েছে।

পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেন, ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা চেয়ে যোগাযোগ করা হলেও তারা শুরুতে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি দেখতে পাননি। পরে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নিয়ে ঝাউদিয়া পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (আই/সি) আরব আলীর নেতৃত্বে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

পুলিশ সূত্র জানায়, অভিযোগ পাওয়ার পর অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত ফারুক আহমেদকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাকে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে এবং ঘটনার সব দিক গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, একজন বাকপ্রতিবন্ধী ও অসহায় নারীর ওপর এমন অভিযোগ অত্যন্ত মর্মান্তিক এবং সমাজের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়। তারা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন, দোষী প্রমাণিত হলে অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ভুক্তভোগী পরিবারের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

এদিকে, প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত অভিযুক্তের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অভিযোগের বিষয়ে আইন অনুযায়ী তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতেই পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মানবাধিকারকর্মীদের মতে, নারী ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সহিংসতার অভিযোগের ক্ষেত্রে দ্রুত তদন্ত, প্রমাণ সংরক্ষণ এবং আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ নিশ্চিত করা হলে ভুক্তভোগীরা ন্যায়বিচার পেতে পারেন এবং এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধেও ইতিবাচক বার্তা যাবে।

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ad728
ad728
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ আলোর পথ | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় অনুপম