কুষ্টিয়া প্রতিনিধি | মো. মুনজুরুল ইসলাম
একসময় লাভজনক অর্থকরী ফসল হিসেবে পরিচিত মরিচ চাষ এখন কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার কৃষকদের জন্য যেন এক অনিশ্চয়তার নাম। উৎপাদন ব্যয়ের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি, মরিচ গাছে পাতা জড়ানো রোগের প্রকোপ, ন্যায্যমূল্যের সংকট এবং বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতায় একের পর এক লোকসানের মুখে পড়ছেন চাষিরা। ফলে আগামী মৌসুমে মরিচের আবাদ কমিয়ে বিকল্প ফসলের দিকে ঝুঁকতে চান অনেক কৃষক।
উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বীজ, সার, কীটনাশক, সেচ ও শ্রমিকের মজুরি—সব কিছুর দাম বাড়ায় প্রতি বিঘা জমিতে মরিচ চাষের ব্যয় আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। কিন্তু মৌসুমে উৎপাদিত মরিচ বাজারে নিয়ে কাঙ্ক্ষিত মূল্য না পাওয়ায় অধিকাংশ কৃষকের স্বপ্ন ভেঙে গেছে লোকসানের কঠিন বাস্তবতায়।
কৃষকদের অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রে খেত থেকে মরিচ সংগ্রহে যে শ্রমিক ব্যয় হয়, বাজারে বিক্রির পর সেই খরচও উঠে আসে না। ফলে ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করা কৃষকেরা আর্থিক সংকটে পড়ছেন। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পাতা জড়ানো রোগের প্রকোপ, যা গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও ফলনকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এতে উৎপাদন কমে যাওয়ায় লোকসানের বোঝা আরও ভারী হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় চাষিরা জানান, বাজারে দামের অস্থিরতা এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব তাদের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ। পর্যাপ্ত সংরক্ষণ সুবিধা না থাকায় বাধ্য হয়ে মৌসুমেই কম দামে মরিচ বিক্রি করতে হয়। ফলে ভালো ফলন হলেও লাভের মুখ দেখা সম্ভব হচ্ছে না।
কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মরিচ বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থকরী ফসল হলেও সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় কৃষকেরা ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হন। সহজ শর্তে কৃষিঋণ, আধুনিক সংরক্ষণাগার, কার্যকর বাজার ব্যবস্থাপনা এবং কৃষকবান্ধব বিপণন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারলে এ সংকট অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।
কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, উৎপাদন ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ মূল্য নিশ্চিত করা, রোগবালাই নিয়ন্ত্রণে সময়োপযোগী পরামর্শ প্রদান এবং বাজার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে পারলে দৌলতপুরের মরিচ চাষ আবারও লাভজনক হয়ে উঠতে পারে। অন্যথায় কৃষকদের মরিচ চাষে আগ্রহ ক্রমেই কমবে, যা ভবিষ্যতে স্থানীয় কৃষি অর্থনীতি ও মরিচ উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
দৌলতপুরের বিস্তীর্ণ মাঠে এখনও সবুজ মরিচ গাছ বাতাসে দুলছে। কিন্তু সেই সবুজের আড়ালে লুকিয়ে আছে শত শত কৃষকের দীর্ঘশ্বাস। তাদের একটাই প্রত্যাশা—পরিশ্রমের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত হোক, কৃষকের ঘরে ফিরুক স্বস্তি, আর মরিচ চাষ আবারও হয়ে উঠুক লাভজনক ও আশার প্রতীক।
| ফজর | ৫.২১ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৩.৪৭ মিনিট বিকাল |
| মাগরিব | ৫.২৬ মিনিট সন্ধ্যা |
| এশা | ৬.৪৪ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১২.৩০ মিনিট দুপুর |