কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: মো. মুনজুরুল ইসলাম
কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার চাপড়া ইউনিয়নের জয়নাবাদ কারিকরপাড়া গ্রামে মাদক ব্যবসা, অগ্নিসংযোগ, চুরি এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে গ্রামবাসীরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট গণপিটিশন দাখিল করেছেন। একই সঙ্গে থানায় পৃথক লিখিত অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গ্রামের কয়েকজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা পরিচালনা, যুবসমাজকে মাদকের দিকে ধাবিত করা এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। গ্রামবাসীদের দাবি, অভিযুক্তরা এলাকার তরুণদের নিকট মাদক বিক্রি করে সামাজিক পরিবেশকে বিপর্যস্ত করে তুলছে। এসব কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করলে অভিযোগকারীদের বিভিন্নভাবে হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
গণপিটিশনে আরও বলা হয়েছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অপ্রাপ্তবয়স্কদের ব্যবহার করে মাদক সরবরাহ, এলাকায় জুয়ার আসর পরিচালনা এবং বিভিন্ন অপকর্মে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এসব ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে।
এদিকে, গত ১৩ জুন ২০২৬ তারিখ বিকেলে গ্রামের বাসিন্দা মো. শহিদুল ইসলাম স্বপনের গরুর গোয়ালঘরের খড়ের পালায় অগ্নিসংযোগের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগকারী দাবি করেছেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি এক অভিযুক্তকে গোয়ালঘর থেকে বের হতে দেখেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে বিষয়টি নিয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তাকে ও তার পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগকারী মো. শহিদুল ইসলাম স্বপন থানায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগে বলেন, “ঘটনার পর আমি বিচার ও নিরাপত্তার স্বার্থে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শরণাপন্ন হয়েছি। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।”
গ্রামের একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় বিভিন্ন অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মকাণ্ডের কারণে সাধারণ মানুষ উদ্বেগের মধ্যে বসবাস করছেন। তারা প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন কামনা করেছেন।
তবে অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, লিখিত অভিযোগ ও গণপিটিশনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে। তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সত্যতা যাচাই করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সত্য উদঘাটিত হলে এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা ও সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
| ফজর | ৫.২১ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৩.৪৭ মিনিট বিকাল |
| মাগরিব | ৫.২৬ মিনিট সন্ধ্যা |
| এশা | ৬.৪৪ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১২.৩০ মিনিট দুপুর |