কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: মো. মুনজুরুল ইসলাম
কুষ্টিয়ায় বহুল আলোচিত মেডিকেল কলেজ ইস্যুকে ঘিরে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে ৫০ কোটি টাকার ঘুষ প্রস্তাবের অভিযোগ। এ নিয়ে এক মাস আগে দেওয়া বক্তব্যের জেরে এবার আইনি নোটিশের মুখে পড়েছেন কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও আলোচিত ইসলামি বক্তা মুফতি আমির হামজা।
মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) কুষ্টিয়া জজ কোর্টের আইনজীবী আব্দুল মজিদ, জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হৃদয় হাসান-এর পক্ষে এ লিগ্যাল নোটিশ পাঠান। নোটিশে সাত দিনের মধ্যে কথিত ঘুষ প্রস্তাবকারীদের পরিচয় প্রকাশ অথবা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত গত ২৬ ফেব্রুয়ারি, কুষ্টিয়া শহরের এক ইফতার মাহফিল ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে। প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুফতি আমির হামজা দাবি করেন, কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ বন্ধ রাখতে চাওয়া একটি পক্ষ মাত্র তিন দিনের মধ্যে তাকে ৫০ কোটিরও বেশি টাকার প্রস্তাব দেয়। দৃঢ় কণ্ঠে তিনি সেদিন বলেন, শত কোটি টাকার প্রলোভনও তার অবস্থান থেকে একচুল সরাতে পারবে না।
তার এমন বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। তবে সময় গড়ালেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নাম প্রকাশ না করায় প্রশ্ন উঠতে থাকে বিভিন্ন মহলে। সেই প্রশ্নের জবাব খুঁজতেই আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন ছাত্রদল নেতা হৃদয় হাসান।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, শরীয়াহ্ ও রাষ্ট্রীয় আইন—উভয় দৃষ্টিকোণ থেকেই ঘুষদাতা ও গ্রহণকারী সমান অপরাধী। ফলে ঘুষ প্রস্তাবকারীদের পরিচয় গোপন রাখা মানে অপরাধীদের পরোক্ষভাবে প্রশ্রয় দেওয়া। এ অবস্থায় জনস্বার্থে তাদের নাম প্রকাশ জরুরি বলে দাবি করা হয়।
এ বিষয়ে হৃদয় হাসান বলেন, “দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সত্য উদঘাটন প্রয়োজন। কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ পূর্ণাঙ্গভাবে চালু না হওয়ায় সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়ছে। কারা এর পেছনে রয়েছে, তা জানতেই এই নোটিশ।”
আইনজীবী আব্দুল মজিদ জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব না পেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সদস্য সচিব জাকির হোসেন সরকার বলেন, “এ ধরনের গুরুতর অভিযোগ প্রমাণসহ প্রকাশ করা উচিত। অন্যথায় এটি একটি ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।”
তবে এ বিষয়ে জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও মুফতি আমির হামজার পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
কুষ্টিয়ার মানুষের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই মেডিকেল কলেজকে ঘিরে ওঠা এমন অভিযোগ-প্রতিআরোপ এখন জনমনে কৌতূহল ও উদ্বেগ—দুই-ই বাড়িয়েছে। এখন সবার নজর, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আদৌ কি প্রকাশ পাবে সেই বহুল আলোচিত নামগুলো, নাকি রহস্যই থেকে যাবে এই ৫০ কোটির গল্প?
| ফজর | ৫.২১ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৩.৪৭ মিনিট বিকাল |
| মাগরিব | ৫.২৬ মিনিট সন্ধ্যা |
| এশা | ৬.৪৪ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১২.৩০ মিনিট দুপুর |