কুষ্টিয়া প্রতিনিধি : মো. মুনজুরুল ইসলাম
কুষ্টিয়ার পোড়াদহ রেলস্টেশন সংলগ্ন বাংলাদেশ রেলওয়ের মালিকানাধীন একটি গুরুত্বপূর্ণ জলাশয় অবৈধভাবে ভরাট করে দখলের পাঁয়তারা থামাতে অবশেষে কঠোর অবস্থান নিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। স্থানীয় প্রভাবশালী একটি চক্র রেলওয়ের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে দীর্ঘদিন ধরে জলাশয় ভরাটের চেষ্টা চালালেও উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশে গত সপ্তাহে এ কার্যক্রম বন্ধ করা হয়। ঘটনাটি এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।
রেলের অভিযোগ নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ভরাট
বাংলাদেশ রেলওয়ের ফিল্ড কানুনগো মোঃ রাজীবুজ্জামান ২৫ নভেম্বর মিরপুর থানায় দায়ের করা অভিযোগে উল্লেখ করেন, পোড়াদহ স্টেশনের উত্তর পাশে রেললাইনের পূর্বাংশে সি.এস রেকর্ডভুক্ত রেলভূমির একটি দীর্ঘদিনের জলাশয় রয়েছে। কিন্তু সম্প্রতি আট জন স্থানীয় ব্যক্তি ১) মোঃ আঃ সামাদ, ২) মোঃ মাসুদ, ৩) মোঃ লিটন, ৪) মোঃ ফরজ, ৫) মোঃ জসিম, ৬) আহম্মোদ, ৭) মোঃ শিবলু, ৮) মোঃ মামুন।
নিজ উদ্যোগে এবং রেলওয়ের কোনো অনুমতি ছাড়াই সেখানে মাটি ফেলে জলাশয় ভরাট শুরু করেন। গত সোমবার ঘটনাস্থলে গিয়ে রেল কর্মকর্তারা কাজ বন্ধের নির্দেশ দিলেও অভিযুক্তরা তা অমান্য করেন। অভিযোগপত্রে এসব কর্মকাণ্ডকে “রেলওয়ে আইনের সম্পূর্ণ পরিপন্থী ও দণ্ডনীয় অপরাধ” হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কঠোর নির্দেশ সীমানা নির্ধারণ না হওয়া পর্যন্ত ভরাট সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
২৪ নভেম্বর পাকশী বিভাগের বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে স্মারক নং—ল্যান্ড/পাকশী/সীমানা নির্ধারণ/২০২২/৪৩৫–এর মাধ্যমে জরুরি নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। চিঠিতে বলা হয়, জলাশয় ও সংলগ্ন রেলভূমির রেকর্ড সংশোধন ও সীমানা নির্ধারণের কাজ চলমান থাকায় যেকোনো ভরাট, স্থাপনা নির্মাণ বা দখল চেষ্টা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।
নির্দেশনায় আরও উল্লেখ করা হয়, নির্দেশ অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কপি পাঠানো হয়েছে জেলা প্রশাসক, পশ্চিম জোন রেলওয়ের প্রধান ভূমি কর্মকর্তা, বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক, মিরপুর ইউএনওসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে।
ভরাটকৃত জলাশয়ের অবস্থান—তফসিল অনুযায়ী মৌজা: কাটদহ (জে.এল ১১০), খতিয়ান: ৪৩৯, সি.এস দাগ: ১৭৯, ৭৮৮ (অংশ), মাপ: ২৮,০০০ বর্গফুট (০.৪৬২৭ একর), চৌহদ্দী: উত্তর: রেলভূমি, দক্ষিণ: রাস্তা, পূর্ব: রেলসীমানা, পশ্চিম: রাস্তা ও রেললাইন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, রাতের অন্ধকারে ডাম্পার ও ট্রাক দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মাটি ফেলার কাজ চলছে। সাধারণ মানুষ মনে করেন—রেলওয়ের কিছু অসাধু কর্মচারীর সহযোগিতা ছাড়া এই দুঃসাহস সম্ভব নয়।
পোড়াদহ বাজারের এক দোকানদার বলেন, “রেললাইনের এত কাছে ভরাট করে দোকান বা ভবন তুললে বড় দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকবে। রেলওয়ে বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরেই উপেক্ষা করে আসছে।”
রেলওয়ের পশ্চিম জোনের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “অবৈধ দখলকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুতই অভিযান পরিচালনা করা হবে। রেলভূমি রক্ষায় এবার কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
মিরপুর থানার ওসি বলেন, “রেলওয়ের লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পরই ভরাট কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত কেউ সেখানে আর কাজ করতে পারবে না।
ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। তারা রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে দ্রুত সীমানা নির্ধারণ, দখলকারীদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের দখলচেষ্টা পুনরাবৃত্তি না হয়—সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন।
জনগণের একটাই প্রত্যাশা—“রেলভূমি রক্ষা হোক, অবৈধ দখলকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযানের সূচনা হোক।”
| ফজর | ৫.২১ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৩.৪৭ মিনিট বিকাল |
| মাগরিব | ৫.২৬ মিনিট সন্ধ্যা |
| এশা | ৬.৪৪ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১২.৩০ মিনিট দুপুর |