| বঙ্গাব্দ
ad728
ad728

অষ্টমনিষা ইউনিয়ন বিএনপি ও ওয়ার্ড কমিটি নিয়ে উত্তেজনা, ত্যাগী নেতাদের ক্ষোভে অস্থির ভাঙ্গুড়া

রিপোর্টারের নামঃ MD MUNZURUL ISLAM
  • আপডেট টাইম : 17-09-2025 ইং
  • 127920 বার পঠিত
অষ্টমনিষা ইউনিয়ন বিএনপি ও ওয়ার্ড কমিটি নিয়ে উত্তেজনা, ত্যাগী নেতাদের ক্ষোভে অস্থির ভাঙ্গুড়া
ছবির ক্যাপশন: অষ্টমনিষা ইউনিয়ন বিএনপি ও ওয়ার্ড কমিটি নিয়ে উত্তেজনা, ত্যাগী নেতাদের ক্ষোভে অস্থির ভাঙ্গুড়া

পাবনা প্রতিনিধি :

পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার অষ্টমনিষা ইউনিয়ন বিএনপি ও নবগঠিত ওয়ার্ড কমিটি নিয়ে তীব্র অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতাদের বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগপন্থী ও আত্মীয়-স্বজনদের অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগে ক্ষোভে ফুঁসছে স্থানীয় নেতাকর্মীরা। এতে ইউনিয়ন বিএনপির ভেতরে অস্থিরতা চরমে পৌঁছেছে এবং যেকোনো সময় বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা করছে স্থানীয়রা।

অভিযোগ উঠেছে, ইউনিয়ন বিএনপি’র আহ্বায়ক মোজাম্মেল হক মোজাম ও সদস্য সচিব ওয়াজ উদ্দিন গোপনে নয়টি ওয়ার্ড কমিটি তৈরি করে উপজেলা বিএনপি’র কাছে জমা দিয়েছেন। এতে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল মান্নানসহ স্থানীয় নেতাদের মতামত উপেক্ষা করা হয়েছে।

ক্ষুব্ধ নেতারা জানান, দীর্ঘ ১৭ বছর রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নেওয়া ত্যাগী নেতাদের বাদ দেওয়া হয়েছে। এ কারণে তারা গত ২৬ ও ২৭ আগস্ট বিক্ষোভ মিছিল, শোডাউন ও সমাবেশ করেন। পাশাপাশি ৭২ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়ে বিতর্কিত আহ্বায়ক, সদস্য সচিব ও যুগ্ম আহ্বায়কদের বহিষ্কার করে নতুন কমিটি গঠনের দাবি জানান। পরে সংবাদ সম্মেলনেও অভিযোগকারীরা আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে অভিযুক্তদের ছবি ও পোস্টার প্রকাশ করেন, যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তোলে।

৮ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. আলেপ আলী বলেন, “আওয়ামী লীগপন্থীদের কমিটিতে জায়গা দেওয়া হয়েছে। ত্যাগী নেতাকর্মীরা যদি অবমূল্যায়িত হয়, তাহলে সংগঠন ভাঙনের মুখে পড়বে।”৬ নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “আমরা রাজপথে লড়েছি, মামলা-মোকদ্দমা খেয়েছি। অথচ আমাদের বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগপন্থীদের কমিটিতে স্থান দেওয়া হয়েছে।”

ইউনিয়ন বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল মান্নান অভিযোগ করে বলেন, “আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব দুজনই আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করে চলেছেন। এতে বিএনপি’র রাজনীতি অস্থিরতার মধ্যে পড়েছে।”

অন্যদিকে, সদস্য সচিব ওয়াজ উদ্দিন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি সবসময় দলের সঙ্গেই আছি। কেউ যদি আমার আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার প্রমাণ দিতে পারে, আমি পদ থেকে সরে দাঁড়াবো।” আহ্বায়ক মোজাম্মেল হক মোজামও অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করেন।

উপজেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক নূর মুজাহিদ স্বপন বলেন, “অষ্টমনিষা ইউনিয়ন কমিটি নিয়ে অভিযোগ পেয়েছি। জেলা বিএনপি’র সদস্য সচিবের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হবে।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ত্যাগী নেতাদের অবমূল্যায়ন করে যদি বিতর্কিত কমিটি বহাল থাকে তবে ইউনিয়ন, উপজেলা এমনকি জেলা পর্যায়ের রাজনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা করছেন, এ দ্বন্দ্ব দীর্ঘায়িত হলে বাজার-ঘাটের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হবে।

এদিকে ত্যাগী নেতারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তারা কোনোভাবেই বিতর্কিত কমিটি মেনে নেবেন না। এখন দেখার বিষয় উপজেলা ও জেলা বিএনপি কী পদক্ষেপ নেয় এবং অষ্টমনিষা ইউনিয়নের এই অস্থিরতা কীভাবে নিরসন হয়।

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ad728
ad728
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ আলোর পথ | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় অনুপম