কুষ্টিয়া প্রতিনিধি | মো. মুনজুরুল ইসলাম
কুষ্টিয়া সদর উপজেলার বংশীতলা গ্রামের ‘বংশীতলা শৈলগাড়ী সড়ক’ পাকা করার কাজে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার, সরকারি শিডিউল লঙ্ঘন ও দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে সড়কটির নির্মাণকাজের সুষ্ঠু তদন্ত, অনিয়মের প্রতিকার এবং গুণগত মান নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এ বিষয়ে কুষ্টিয়া স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে গ্রামবাসীর পক্ষে গণস্বাক্ষর সংবলিত একটি লিখিত আবেদন দেওয়া হয়েছে। আবেদনে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এলজিইডির অধীনে সড়কটির উন্নয়নকাজ চলমান রয়েছে। প্রকল্পটির সড়ক আইডি নম্বর ২৫০৭৯৫৫২৬ এবং ই-জিপি টেন্ডার আইডি ১১৯৯৯৩১। কাজটি বাস্তবায়নের দায়িত্বে রয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান: মেসার্স একরামুল হক, যার স্বত্বাধিকারী মো. একরামুল হক।
গ্রামবাসীর অভিযোগ, সড়কের খনন ও ভরাটের পর ব্যবহৃত রাবিশ অত্যন্ত নিম্নমানের এবং সরকারি শিডিউলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। একইভাবে সড়কের সাব-বেসসহ বিভিন্ন পর্যায়ে নিম্নমানের ইট ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর অল্প সময়ের মধ্যেই সড়কটি ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তাঁরা।
আবেদনে কুষ্টিয়া সদর উপজেলা প্রকৌশলী রোশান আহমেদের তত্ত্বাবধান নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। গ্রামবাসীর দাবি, তাঁর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানেই এসব অনিয়ম সংঘটিত হচ্ছে। এলজিইডির অন্যান্য ঠিকাদারগণের সাথে যোগাযোগ করা হলে নাম না প্রকাশ করার শর্তে তাঁরা অভিযোগ করেন, রোশান আহমেদের অতিরিক্ত ঘুষের চাহিদা মেটাতে ঠিকাদারগণ স্বর্বশান্ত হয়ে যাচ্ছে ও ঠিকমতো কাজ করতে পারছে না। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য ও প্রকল্পের বাস্তব অবস্থা সরেজমিন যাচাই করা প্রয়োজন।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, একটি সড়ক নির্মাণে সরকারের বিপুল অর্থ ব্যয় হয়। অথচ নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হলে জনগণের অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত হবে না। অল্প দিনের মধ্যে সড়কটি নষ্ট হয়ে গেলে আবারও সংস্কারের প্রয়োজন হবে, যা সরকারি অর্থের অপচয়ের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়াবে।
আবেদনে গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে তিনটি প্রধান দাবি জানানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, অবিলম্বে সরেজমিনে কাজ পরিদর্শন ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন, নিম্নমানের ইট ও শিডিউলবহির্ভূত রাবিশ অপসারণ এবং সরকারি প্রাক্কলন ও নির্ধারিত কারিগরি মান অনুসরণ করে নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রকল্পের নির্মাণসামগ্রীর গুণগত মান পরীক্ষা এবং কাজের প্রতিটি ধাপ যথাযথভাবে যাচাই করবে। কারণ, উন্নয়ন মানে শুধু রাস্তা নির্মাণ নয়; সেই রাস্তার স্থায়িত্ব, নিরাপত্তা ও জনস্বার্থ নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
তবে এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা-ও গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা প্রয়োজন। অভিযোগের সত্যতা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার পরই দায়ীদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
| ফজর | ৫.২১ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৩.৪৭ মিনিট বিকাল |
| মাগরিব | ৫.২৬ মিনিট সন্ধ্যা |
| এশা | ৬.৪৪ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১২.৩০ মিনিট দুপুর |