কুষ্টিয়া প্রতিনিধি |
কুষ্টিয়া সদর উপজেলার বংশীতলা-শৈলগাড়ী সড়ক নির্মাণকাজে নিম্নমানের ইট ও রাবিশ ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি প্রাক্কলন ও নির্ধারিত কারিগরি শিডিউল অনুসরণ না করে কাজ করার অভিযোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের আশঙ্কা, এভাবে নির্মাণকাজ চলতে থাকলে সড়কটি চালুর অল্প সময়ের মধ্যেই ভেঙে পড়তে পারে। এ অবস্থায় অনিয়মের নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং সড়কের নির্মাণমান নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
এ বিষয়ে কুষ্টিয়া স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে গ্রামবাসীর পক্ষে গণস্বাক্ষরসংবলিত একটি লিখিত আবেদন দেওয়া হয়েছে। আবেদনে সরেজমিনে তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বৃহত্তর কুষ্টিয়া জেলা গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় কুষ্টিয়া সদর উপজেলার পাঁচটি সড়কের উন্নয়নকাজ বাস্তবায়নের দায়িত্ব পেয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স একরামুল হক। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী মো. একরামুল হক। প্রকল্পের প্যাকেজ নম্বর e-Tender/GKRIDP/08/KW-267 এবং ই-জিপি টেন্ডার আইডি ১১৯৯৯৩১।
প্রকল্পের আওতাভুক্ত সড়কগুলো হলো—বংশীতলা-শৈলগাড়ী সড়কের শূন্য থেকে এক হাজার মিটার, পূর্ব আব্দালপুর পূর্বপাড়া জামে মসজিদ-কালী নদী শিতালীডাঙ্গা সড়কের শূন্য থেকে এক হাজার ১৫০ মিটার, নওয়াপাড়া পাকা সড়কের চুলকানী মোড়-রূপনগর সড়কের শূন্য থেকে এক হাজার ১০০ মিটার, আসাননগর আজিজল আলীর বাড়ি-তমিজ মোড় সড়কের শূন্য থেকে এক হাজার ৫০০ মিটার এবং বটতৈল মধ্যপাড়া জাতীয় ঈদগাহ-আরঅ্যান্ডএইচ-বিশ্বাসপাড়া সড়কের শূন্য থেকে ৪২০ মিটার।
গ্রামবাসীর অভিযোগ, সড়কের খনন ও ভরাটের কাজে ব্যবহৃত রাবিশের মান অত্যন্ত নিম্নমানের এবং তা সরকারি শিডিউলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। শুধু তাই নয়, সড়কের সাব-বেসসহ বিভিন্ন স্তরে নিম্নমানের ইট ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে নির্মাণকাজে নির্ধারিত গুণগত মান বজায় থাকছে কি না, তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
আবেদনে কুষ্টিয়া সদর উপজেলা প্রকৌশলী রোশান আহমেদের তদারকি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন আবেদনকারীরা। তাঁদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানেই এসব অনিয়ম ঘটছে। এ ছাড়া এলজিইডির কয়েকজন ঠিকাদার নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেছেন, উপজেলা প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে অতিরিক্ত ঘুষ দাবি করার অভিযোগ রয়েছে। তাঁদের দাবি, এ ধরনের আর্থিক চাপের কারণে ঠিকাদারদের কাজ পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়ছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন যাচাই প্রয়োজন।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, একটি সড়ক নির্মাণে সরকারের বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় হয়। সেই অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্ব। নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করে সড়ক নির্মাণ করা হলে জনগণের অর্থের অপচয় হবে। অল্প সময়ের মধ্যে সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হলে পুনরায় সংস্কারের প্রয়োজন দেখা দেবে, বাড়বে সাধারণ মানুষের ভোগান্তিও।
লিখিত আবেদনে গ্রামবাসী তিনটি সুনির্দিষ্ট দাবি জানিয়েছেন। এগুলো হলো—অবিলম্বে সরেজমিনে নির্মাণকাজ পরিদর্শন করে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন, নিম্নমানের ইট ও শিডিউলবহির্ভূত রাবিশ অপসারণ এবং সরকারি প্রাক্কলন ও নির্ধারিত কারিগরি মান অনুসরণ করে নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা।
এ বিষয়ে কুষ্টিয়া সদর উপজেলা প্রকৌশলী রোশান আহমেদের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ফলে অভিযোগগুলোর বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, অভিযোগকে নিছক লিখিত আবেদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে। নির্মাণসামগ্রীর নমুনা পরীক্ষা, কাজের পরিমাপ যাচাই এবং প্রতিটি ধাপের কারিগরি মান নিশ্চিত করা হবে। কারণ, উন্নয়ন প্রকল্পের সাফল্য শুধু সড়ক নির্মাণে নয়, বরং সেই সড়কের স্থায়িত্ব, নিরাপত্তা ও জনস্বার্থ রক্ষার মধ্যেই নিহিত।
| ফজর | ৫.২১ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৩.৪৭ মিনিট বিকাল |
| মাগরিব | ৫.২৬ মিনিট সন্ধ্যা |
| এশা | ৬.৪৪ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১২.৩০ মিনিট দুপুর |