| বঙ্গাব্দ
ad728
ad728

কুষ্টিয়া বন্ধ মিলের ফটকে আখচাষীদের ক্ষোভ সুগার মিল পুনরায় চালুর দাবি

রিপোর্টারের নামঃ MD MUNZURUL ISLAM
  • আপডেট টাইম : 05-09-2026 ইং
  • 1340 বার পঠিত
কুষ্টিয়া বন্ধ মিলের ফটকে আখচাষীদের ক্ষোভ সুগার মিল পুনরায় চালুর দাবি
ছবির ক্যাপশন: কুষ্টিয়া বন্ধ মিলের ফটকে আখচাষীদের ক্ষোভ সুগার মিল পুনরায় চালুর দাবি

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি | মো. মুনজুরুল ইসলাম

“মিল বাঁচাও, আখচাষী বাঁচাও”—এই স্লোগানে মুখর হয়ে উঠেছে কুষ্টিয়ার আখচাষীদের কণ্ঠ। দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা কুষ্টিয়া সুগার মিল পুনরায় চালু, আখের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত এবং আখচাষীদের জীবন-জীবিকা সুরক্ষার দাবিতে মিলের প্রধান ফটকের সামনে সমাবেশ করেছেন জেলার বিভিন্ন এলাকার আখচাষীরা।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টায় কুষ্টিয়া সুগার মিলের প্রধান ফটকের সামনে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। আখচাষী কল্যাণ সমিতি, কুষ্টিয়া সুগার মিলস লিমিটেড, পোড়াদহ-জগতি-কুষ্টিয়ার উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিপুলসংখ্যক আখচাষী অংশ নেন। পাশাপাশি বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন। কর্মসূচিতে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা সংবাদ সংগ্রহ করেন।

সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন কুষ্টিয়া-২ (মিরপুর-ভেড়ামারা) আসনের বিএনপি নেতা ও আইনজীবী ব্যারিস্টার রাগীব রউফ চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন মিরপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার টিপু সুলতান, কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও জজ কোর্টের বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট শামিম উল হাসান অপু, কুষ্টিয়া সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক আহ্বায়ক বশিরুল আলম চাঁদ এবং মিরপুর উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি মো. আজাদুর রহমান আজাদ বিশ্বাস।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, কুষ্টিয়া সুগার মিল কেবল একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান নয়; এটি এ অঞ্চলের হাজারো আখচাষী, শ্রমিক-কর্মচারী, পরিবহন শ্রমিক, দিনমজুর, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। মিলটি দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে আখচাষীদের ওপর। উৎপাদিত আখের নিশ্চিত বাজার না থাকায় অনেক কৃষক আখচাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন।

বক্তারা আরও বলেন, ২০২০ সালে মিলটি বন্ধ হওয়ার পর থেকে আখচাষীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। বছরের পর বছর একটি কৃষিভিত্তিক শিল্পপ্রতিষ্ঠান বন্ধ পড়ে থাকায় শুধু মিলের উৎপাদন ব্যবস্থাই থেমে নেই, এর সঙ্গে জড়িত একটি বড় অর্থনৈতিক চক্রও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আখের মাঠ থেকে মিলের গেট—প্রতিটি স্তরেই এর প্রভাব পড়ছে।

তাদের ভাষ্য, একটি চিনিকল সচল থাকলে কৃষকের উৎপাদিত আখের বাজার নিশ্চিত হয়। একই সঙ্গে আখ পরিবহন, শ্রমিকের কর্মসংস্থান, কৃষি উপকরণ বিক্রি, ক্ষুদ্র ব্যবসা এবং স্থানীয় বাজারে অর্থের প্রবাহ বাড়ে। ফলে কুষ্টিয়া সুগার মিল পুনরায় চালু করা হলে শুধু আখচাষীরাই উপকৃত হবেন না, গোটা অঞ্চলের কৃষি ও অর্থনীতিতে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

সমাবেশ থেকে বক্তারা দ্রুত কুষ্টিয়া সুগার মিল পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। একই সঙ্গে মিলটি আধুনিকায়ন, কার্যকর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত, আখের ন্যায্য মূল্য নির্ধারণ এবং মিলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শ্রমিক-কর্মচারীদের কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তার দাবি জানান তারা।

আখচাষীদের প্রত্যাশা, দীর্ঘদিনের অচলাবস্থার অবসান ঘটিয়ে আধুনিক প্রযুক্তি ও কার্যকর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কুষ্টিয়া সুগার মিলকে দ্রুত উৎপাদনে ফিরিয়ে আনা হবে। তাদের মতে, মিলের চিমনি থেকে আবার ধোঁয়া উঠলে শুধু একটি বন্ধ শিল্পকারখানাই সচল হবে না—ফিরে আসবে আখচাষীদের প্রাণচাঞ্চল্য, বাড়বে স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং নতুন করে আশার আলো দেখবে কৃষিনির্ভর হাজারো পরিবার।

সমাবেশে আখচাষী কল্যাণ সমিতির নেতৃবৃন্দসহ কুষ্টিয়ার বিভিন্ন এলাকার বিপুলসংখ্যক আখচাষী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

আখচাষীদের প্রত্যাশা একটাই—“মিল বাঁচলে আখচাষী বাঁচবে, আর আখচাষী বাঁচলে বাঁচবে কৃষকের অর্থনীতি।”

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ad728
ad728
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ আলোর পথ | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় অনুপম