| বঙ্গাব্দ
ad728
ad728

হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে হেফাজতের বক্তব্যের প্রতিবাদে কুষ্টিয়ায় সংবাদ সম্মেলন

রিপোর্টারের নামঃ MD MUNZURUL ISLAM
  • আপডেট টাইম : 26-08-2026 ইং
  • 327 বার পঠিত
হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে হেফাজতের বক্তব্যের প্রতিবাদে কুষ্টিয়ায় সংবাদ সম্মেলন
ছবির ক্যাপশন: হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে হেফাজতের বক্তব্যের প্রতিবাদে কুষ্টিয়ায় সংবাদ সম্মেলন

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি:

হেফাজতে ইসলামের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য, মিথ্যাচার, ফতোয়াবাজি ও হুমকির অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ জানিয়েছে হেযবুত তওহীদ। একই সঙ্গে সংগঠনটির সদস্যদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, উসকানিদাতাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং মতপ্রকাশ ও ধর্মীয় অধিকার সুরক্ষার দাবি জানানো হয়েছে।

বুধবার (২৬ আগস্ট) কুষ্টিয়া জেলা হেযবুত তওহীদের উদ্যোগে জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন হেযবুত তওহীদের কুষ্টিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক আমির মো. জসেব উদ্দীন। এতে সভাপতিত্ব করেন কুষ্টিয়া জেলা সভাপতি মো. আক্কাচ আলী। উপস্থিত ছিলেন জেলা সাধারণ সম্পাদক আব্দুল লতিফ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মো. আইমান আহম্মেদ কামাল।

লিখিত বক্তব্যে হেযবুত তওহীদের নেতারা অভিযোগ করেন, গত ১ আগস্ট নোয়াখালী জেলা স্কুল মাঠে হেফাজতে ইসলামের একটি সমাবেশে তাদের সংগঠনকে নিয়ে উসকানিমূলক ও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, ওই সমাবেশ থেকে হেযবুত তওহীদের ইমাম ও সদস্যদের বিরুদ্ধে হিংসাত্মক বক্তব্য এবং সংগঠনটিকে দেশ থেকে উৎখাতের হুমকি দেওয়া হয়। এমনকি সমাবেশে অংশ নেওয়া নারীদের নিয়েও অবমাননাকর মন্তব্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে আরও দাবি করা হয়, ফটিকছড়িতে হেফাজতে ইসলামের পক্ষ থেকে উত্থাপিত নয় দফা দাবির একটি দফায় হেযবুত তওহীদকে নিষিদ্ধ করার দাবি জানানো হয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডকে সংগঠনটির নেতারা ‘অন্যায্য’ ও ‘উসকানিমূলক’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এর ফলে তাদের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

হেযবুত তওহীদের নেতারা অতীতের কয়েকটি সহিংস ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে ধরে দাবি করেন, উগ্রবাদীদের ইন্ধনে পোরকরা গ্রামে সংগঠনটির ইমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিমের বাড়িতে একাধিকবার হামলা হয়েছে। এসব ঘটনায় তাদের দুই সদস্য নিহত এবং শতাধিক সদস্য আহত হয়েছেন বলেও সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়। তাদের ভাষ্য, সাম্প্রতিক পরিস্থিতির কারণে নোয়াখালীতে সংগঠনটির স্কুল, হাসপাতাল, খামার ও পোশাক কারখানাসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পও নিরাপত্তাঝুঁকিতে রয়েছে।

বক্তারা দাবি করেন, হেযবুত তওহীদ একটি অরাজনৈতিক ও সংস্কারমূলক আন্দোলন, যা দীর্ঘদিন ধরে উগ্রবাদ, সন্ত্রাসবাদ ও ধর্মের অপব্যবহারের বিরুদ্ধে কাজ করে আসছে। আইন ও সংবিধানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকেই তারা তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন বলে জানান। সংগঠনটির দাবি, বিভিন্ন সময়ে তাদের বিরুদ্ধে বহু মামলা হলেও দীর্ঘ ৩১ বছরে তাদের কোনো সদস্য আদালতের রায়ে দোষী সাব্যস্ত হননি।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, মত ও বিশ্বাসের ভিন্নতা থাকতেই পারে; তবে কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের বিরুদ্ধে হুমকি, সহিংসতার উসকানি কিংবা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সুযোগ নেই। দেশের প্রচলিত আইন, সংবিধান ও আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে যেকোনো বিরোধের সমাধান হওয়া উচিত বলেও তারা মন্তব্য করেন।

সংবাদ সম্মেলনে হেযবুত তওহীদের পক্ষ থেকে কয়েকটি দাবি তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে—উসকানিমূলক বক্তব্য ও ফতোয়া প্রদানকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও মসজিদ ব্যবহার করে কোনো ধরনের বিদ্বেষ বা সহিংসতায় উসকানি বন্ধ করা, সংগঠনটির কার্যালয়, সদস্যদের পরিবার ও উন্নয়নমূলক প্রকল্পের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাদের মতপ্রকাশ ও ধর্মীয় অধিকার সংরক্ষণ করা।

একই সঙ্গে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গণমাধ্যম ও সচেতন নাগরিকদের ধর্মীয় বিদ্বেষ, মব সহিংসতা ও উগ্রতার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান হেযবুত তওহীদের নেতারা। তারা বলেন, মতপার্থক্যকে কেন্দ্র করে সংঘাত নয়; বরং আইন, সংবিধান ও পারস্পরিক সহনশীলতার ভিত্তিতেই একটি শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।

তবে সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে হেফাজতে ইসলামের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর স্বাধীন সত্যতা যাচাইও সম্ভব হয়নি।

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ad728
ad728
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ আলোর পথ | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় অনুপম