কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: মো. মুনজুরুল ইসলাম
কুষ্টিয়ার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কুষ্টিয়া মেরিট মডেল স্কুল-এ বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান-২০২৬। প্রাণচাঞ্চল্য, উদ্দীপনা ও সুস্থ প্রতিযোগিতার এক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছিল বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ। শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে দিনটি রূপ নেয় এক হৃদয়ছোঁয়া উৎসবে।
কুষ্টিয়া শহরের কেন্দ্রস্থল কাজী নজরুল ইসলাম রোডের কোটপাড়া এলাকায় অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষার মান, নৈতিকতা ও মূল্যবোধ চর্চায় ইতোমধ্যেই অভিভাবকদের আস্থার প্রতীক হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত। সেই ধারাবাহিকতায় ক্রীড়াঙ্গনেও শিক্ষার্থীদের প্রতিভা বিকাশে বিদ্যালয়ের এমন উদ্যোগ প্রশংসিত হয়েছে সর্বমহলে।
সকালের কোমল রোদ আর নির্মল পরিবেশে জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতা। পতাকার প্রতি সম্মান প্রদর্শন ও শপথ গ্রহণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা ক্রীড়ার চেতনা ধারণ করে অংশ নেয় প্রতিযোগিতায়।
এরপর শুরু হয় একের পর এক আকর্ষণীয় ইভেন্ট—দৌড় প্রতিযোগিতা, লং জাম্প, উচ্চ লাফ, বালতি ভরাটসহ বিভিন্ন আয়োজনে মুখর হয়ে ওঠে পুরো ক্যাম্পাস। ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণ যেমন ছিল মনোমুগ্ধকর, তেমনি বড়দের প্রতিযোগিতায় ছিল শ্বাসরুদ্ধকর উত্তেজনা। প্রতিটি ইভেন্টে শৃঙ্খলা, ক্রীড়াসুলভ মনোভাব ও পারস্পরিক সহযোগিতার চিত্র উপস্থিত সবাইকে মুগ্ধ করে।
বিদ্যালয়ের চেয়ারম্যান তাঁর বক্তব্যে বলেন, “ক্রীড়া শক্তি, ক্রীড়া বল—ক্রীড়াই বাড়ায় মনোবল। সুস্থ দেহ ও মন গঠনে খেলাধুলার বিকল্প নেই।”
প্রধান শিক্ষক তাঁর বক্তব্যে বলেন, “শিক্ষা শুধু পাঠ্যপুস্তকের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; খেলাধুলা শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ক্রীড়া আমাদের শৃঙ্খলা, সহনশীলতা ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকশিত করে।” তিনি সফল আয়োজনের জন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মচারী ও অভিভাবকদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
দিনব্যাপী এই আয়োজনে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ ছিল উৎসবের রঙে রঙিন। অভিভাবকদের করতালি, শিক্ষকদের উৎসাহ এবং সহপাঠীদের প্রাণখোলা সমর্থনে প্রতিটি মুহূর্ত হয়ে ওঠে অনন্য। বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার ও সনদপত্র তুলে দেওয়ার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি পায় গৌরবোজ্জ্বল সমাপ্তি।
সব মিলিয়ে সম্মিলিত প্রচেষ্টা, আন্তরিকতা ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনায় বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা-২০২৬ হয়ে উঠেছে এক প্রাণবন্ত ও সফল আয়োজন—যা শিক্ষার্থীদের হৃদয়ে দীর্ঘদিন প্রেরণার আলো জ্বালিয়ে রাখবে। এই আয়োজনের নানা মুহূর্তে ধরা পড়েছে হাসি, পরিশ্রম, সাফল্য ও বন্ধুত্বের অমলিন স্মৃতি; যা ভবিষ্যতেও তাদের এগিয়ে চলার শক্তি জোগাবে।
| ফজর | ৫.২১ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৩.৪৭ মিনিট বিকাল |
| মাগরিব | ৫.২৬ মিনিট সন্ধ্যা |
| এশা | ৬.৪৪ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১২.৩০ মিনিট দুপুর |